Blood Group এবং আমাদের শরীরে রক্তের নানা রহস্য

জেনে নিন, আমাদের শরীরে Blood Group এর বিভিন্ন রহস্য।

Blood Group ঃ আমাদের শরীর অসংখ্য কোষ দিয়ে তৈরী। আমাদের শরীরের কোষগুলি কে সক্রিয় রাখতে রক্ত Blood একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জীবদেহে রক্ত প্রধানত লাল রঙের হয়।

রক্তের কাজ ঃ The Function of Blood

  1. কোষগুলি কে সক্রিয় রাখতে প্রতিটি কোষে কোষে অক্সিজেন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি ধমনীর মাধ্যমে আমাদের শরীরে পৌছে দেয়।
  2. এবং কোষে উৎপন্ন কার্ব ডাই অক্সাইড শিরার মাধ্যমে বহন করে ফুসফুসে পৌছে দেয়।
  3. এছাড়া কোষে উৎপন্ন সমস্ত ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া বা পদ্ধতি যা জীবদেহে ঘটে যেমন ইউরিয়া ইত্যাদি রক্তের দ্বারা শিরার মধ্যমে নিষ্কাষিত হয়।
  4. রক্ত দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করে।
  5. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।

Blood Group এবং আমাদের শরীরে রক্তের নানা রহস্য

এই প্রবন্ধটির মাধ্যমে Blood Group এবং আমাদের শরীরে রক্তের নানা রহস্য এবং তার বিভিন্ন অজানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।

একজন স্বাভাবিক স্বাস্থ্যবান পুরুষের দেহে 5 লিটার রক্ত থাকে। এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে শরীরে অবস্থিত রক্তের পরিমান four.5 লিটার। শরীরে এক কেজি দেহ ওজনে 60 থেকে 80 মিলিলিটার আয়তনের রক্ত থাকে।

Blood মাত্র দুটি উপদান নিয়ে তৈরী। একটি হল রক্তরস ( যার পরিমান 55% ) এবং আর একটি হল রক্তকোষ ( যার পরিমান 45% )।

রক্তকোষ বা কণিকা তিনটি উপাদান নিয়ে তৈরী। যথাক্রমে, লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্ত কণিকা এবং অনুচক্রিকা।

লোহিত রক্ত কণিকা ঃ RBC

লোহিত রক্ত কণিকাকে ইরিথ্রসাইট বলা হয়। অনুবীক্ষন যন্ত্র দিয়ে দেখলে, এই লোহিত কণিকা গুলিকে গোল গোজ্ঞ চাকতির মতো দেখতে লাগে। এই লোহিত রক্ত কণিকার মধ্যে আমাদের শরীরের জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যে পদার্থটি থাকে তাকে বলা হয় হিমোগ্লোবিন। এই হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতির জন্যই রক্তের রঙ লাল হয়।

Blood Group এবং আমাদের শরীরে রক্তের নানা রহস্য

এই হিমোগ্লোবিন এক লৌহঘটিত রঞ্জক পদার্থ। যার মধ্যে নাম হিম এবং একটি প্রোটিন থাকে তার নাম গ্লোবিন। একজন স্বাভাবিক মানুষের শরীরের এই হিমোগ্লোবিনের পরিমান 14 থেলে 15.6 গ্রাম / 100 ঘনসেমিরক্ত। তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে এই হিমোগ্লোবিনের পরিমান একটু কম থাকে। তা হল 11 থেকে 14 গ্রাম / 100 ঘনসেমিরক্ত।

লোহিত রক্ত কণিকা গুলি প্লিহা ও অস্থিমজ্জায় প্রতি সেকেন্ডে 1.three লক্ষ কোষ হিসাবে তৈরী হয়। সমগ্র জীবন কালে অস্থিমজ্জা প্রায় অর্ধেকটন লোহিত রক্ত কণিকা তৈরী করে। তবে লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু মাত্র 100 থেকে 120 দিন।

এই লোহিত রক্ত কণিকায় অবস্থিত হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে ধমনীর মাধ্যমে প্রতিটি কোষে কোষে পৌছে দেয়। আবার কোষে উৎপন্ন কার্বন ডাই অক্সাইড শিরার মাধ্যমে বিভিন্ন কোষ থেকে সংগ্রহ করে ফুসফুসে নিয়ে যায়। আমরা শ্বাস নেওয়ার সহ প্রশ্বাসের মাধ্যমে বাতাসে অবস্থিত অক্সিজেন গ্রহন করি যা শ্বাসনালী দিয়ে ফুসফুসে পৌছায়। আবার ফুসফুসে জমা হওয়া কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃশ্বাসের মাধ্যমে বাতাসে বার করে থাকি।

Read here How to Avoid Lower Back Pain

শ্বেত রক্ত কণিকা ঃ WBC

লোহিত রক্ত কণিকার মতো আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কণিকা হল শ্বেত রক্ত কণিকা। যার প্রধানকাজ শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা। অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখলে শ্বেত কণিকাকে গোলাকার অর্ধস্বচ্ছ দেখতে হয়। লোহিত রক্ত কণিকার তুলনায় শ্বেত রক্ত কণিকার পরিমান কম থাকে।

Blood Group এবং আমাদের শরীরে রক্তের নানা রহস্য

শ্বেত রক্ত কণিকা ও লোহিত রক্ত কণিকার অনুপাত 1 : 400 থেকে 500। আবার আকার অনুযায়ী শ্বেত রক্ত কণিকা লোহিত রক্ত কণিকার তুলনায় সমাান্য বড় হয়।

অনুচক্রিকা ঃ Platelets

এটি আকারে ক্ষুদ্র, গোলাকার বা ডিম্বাকার, বর্ণহীন একধরণের উপাদান। শ্বেত রক্ত কণিকার চারভাগের একভাড আয়তন বিশিষ্ট হয়। এদের কাজ হল শরীরের কোন স্থান ক্ষত হলে বা কেটে ঐ স্থান থেকে যখন রক্ত নির্গত হয়। সেই স্থানটি উপস্থিত হয় দ্রুত রক্ত নির্গত হওয়া বন্ধ করে। এই পক্রিয়াকে বলা হয় রক্ততঞ্চন। থ্রম্বোপ্লাস্টিন নামক একপ্রকার উপদানা নির্গত করে রক্তপরা বন্ধ করে দেয়। যার ফলে রক্তনালীথেকে রক্ত পরা বন্ধ হয়। রক্তে এর গড় আয়ু মাত্র কয়েক ঘন্টা।

রক্তরস ঃ Plasma

রক্তের 55% তরল অবস্থান করে। যাকে প্লাজমা বা রক্তরস বলা হয়। এটি দেখতে একটু স্বচ্ছ হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে। এই রক্তরস 90% জল দিয়ে তৈরী আর সাথে থাকে প্রোটিন ও লবণ। শরীরে উৎপাদিত বর্জপদার্থ কিডনীতে এনে দেয়। কিডনী তা পরিশ্রূত করে শরীরের বাইরে নল ও মূত্রের আকারে সেই বর্জ পদার্থ গুলি বাইরে বার করে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
%d bloggers like this: