কর্মই কি পুজা কি বলছে সনাতন ধর্ম

কর্মই কি পুজা কি বলছে সনাতন ধর্ম

 নিজের কর্মে দ্বারা কি পূজা সম্পন্ন করা যায়, কি বলছে সনাতন ধর্ম

কর্মই কি পুজা  –পুজা সাধক কবি রামপ্রসাদ তার একটি গানে বলেছিলেন, “ আহার কর মনে কর আহুতি দিই শ্যামা মারে । যা কিছু আমরা করে থাকি তা শুধুই ঈশ্বরকে তুষ্ট করার জন্য ; কারণ তিনিই আমাদের প্রভু । আমরা তাকে ভালবাসি বলেই তার সেবা করে সুখী হ‌ই।

পুজা – সমস্ত গানের মূল ভাবটি হলাে , যত সামান্য কাজ করুন না কেন , সবকিছুই ঈশ্বরের পুজা করছেন মনে করে দীনতার সঙ্গে, শ্রদ্ধার সঙ্গে , করতে হবে ।ঈশ্বরকেই আমাদের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু করতে হবে । মনে রাখতে হবে আমরা যদি দেহের যত্ন করি, তাহলেও আমরা প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরেরই যত্ন করবো , কারণ ঈশ্বর আমাদের দেহের মধ্যেই বিরাজ করছেন সে নিজের দেহেই হােক বা অন্যের দেহে-ই । যা কিছু আমরা করে থাকি তা শুধুই ঈশ্বরকে তুষ্ট করার জন্য ; কারণ তিনিই আমাদের প্রভু । আমরা তাকে ভালবাসি বলেই তার সেবা করে সুখী হ‌ই।মনে করি , তার সেবার সুযোগ পেয়ে আমরা ধন্য ।

কর্মই কি পুজা কি বলছে সনাতন ধর্ম

সেবা করতে গিয়ে যদি কষ্টও পাই , সেও আমাদের পক্ষে সুখের । ঈশ্বর আমাদের কিছু দেবেন এই আশা করে তার সেবা না করাই ভালো । তাকে আমরা ভালবাসি , ভালাে না বেসে পারি না , তাই তার সেবা করি । তিনি আমাদের ভালবাসতেও পারেন , নাও পারেন তবু তার প্রতি আমাদের ভালবাসা অটল ! আবার আমরা যে ভগবানের ভয়ে ভীত হয়ে তাকে ভালবাসি , তাও নয় । কারণ যেখানে ভয় , সেখানে কি সত্যিকারের ভালবাসা থাকতে পারে ? পারে না।

এটি যে সম্পূর্ণ নতুন ভাব , তাও নয় । গীতায়ও আপনি এই ভাব পাবেন । সেখানে কৃষ্ণ অর্জুনকে সব কর্মের ফল তাকে সমর্পণ করে দিতে বলছেন।অর্জুনকে বলছেন — কাজের অধিকার তােমার অবশ্যই আছে , কিন্তু ফলে তােমার কোনও অধিকার নেই ।

কর্মই কি পুজা

এখন প্রশ্ন উঠবে — ফলের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে কাজ করা সম্ভব কি ? একজন বুদ্ধিমান , অনভূতিসম্পন্ন মানুষের পক্ষে কি রোবট হওয়া সম্ভব ? ধরলাম , তিনি তা – ই হলেন । সেক্ষেত্রেও তার কাজের কি কোনও মহত্ত্ব থাকবে ?

আরো পড়ুন হিন্দুধর্মের পূজায় ঘট ব্যবহার করা হয় কেন ?

এই প্রশ্ন যে উঠতে পারে , কৃষ্ণ তা অনুমান করতে পেরেছিলেন । তাই তিনি বলছেন , একেবারে কর্ম না করে থাকা কারাে পক্ষেই সম্ভব নয় । দৈহিক হােক আর মানসিক হােক , কাজ তাকে নিরন্তর করে যেতেই হবে । এখন মানুষ কোনও না কোনও ভাবে নিজের স্বার্থসিদ্ধির প্রেরণাতেই কাজ করছে । যখন তাকে সব কাজের ফল ঈশ্বরে সমর্পণ করতে বলা হবে , তখনও সে কঠোর পরিশ্রম করবে : কিন্তু নিজের জন্য নয় , ঈশ্বরের জন্য । যেহেতু সে সবকিছুর চেয়ে ,

করোনার আশঙ্কায় সিল করা হল ভাটপাড়া ৮ নং ওয়ার্ড

সকলের চেয়ে , এমনকি নিজের থেকেও ঈশ্বরকে বেশি ভালবাসে , সেহেতু যথাসাধ্য পরম যত্নের সঙ্গে সে কাজ করবে ; প্রতিটি পদক্ষেপ সে সতর্ক হয়ে ফেলবে । কর্মের উপায়টির ওপর তাকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে , কারণ উপায় এবং উদ্দেশ্য —

কর্মই কি পুজা কি বলছে সনাতন ধর্ম

দুটিই ভালাে হওয়া চাই । তার সব প্রয়াসেরই বিশেষ মূল্য আছে , কারণ তাদের চরম লক্ষ্য একটিই — ঈশ্বরকে প্রসন্ন করা । এই লক্ষ্যটিকে সামনে রাখলেই তার প্রত্যেক কাজ পুজায় পরিণত হবে ।

তখন আর তুচ্ছ কাজকে তুচ্ছ বলে মনে হবে না , সামান্য কাজও পুজার সৌরভে অসামান্য হয়ে উঠবে । আচ্ছা , মনে করা যাক , নিজের পরিবারের ভরণপােষণের জন্য কেউ দোকান চালাচ্ছেন অথবা জনমজুরের কাজ করছেন । তাহলেও কি বলতে হবে তিনি ঈশ্বরের আরাধনা করছেন ? হ্যাঁ , তখনও তিনি ঈশ্বরের আরাধনাই করছেন ,

কর্মই কি পুজা কি বলছে সনাতন ধর্ম

Read Free Astrology Magazine কারণ তিনি যা কিছু করছেন ঈশ্বরের জন্যই করছেন , নিজের জন্য নয় । ধর্মকে যদি আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করতে হয় , তাহলে জীবনে তাকে প্রয়ােগ করতে হবে এবং সেই প্রয়ােগ তখনই যথার্থ হবে যখন ঈশ্বরকে আমরা আমাদের জীবনের কেন্দ্রভূমিতে প্রতিষ্ঠিত করবাে , যেমন রামপ্রসাদ বলেছিলেন “যা কিছু করবাে , মনে করতে হবে আমরা ঈশ্বরের সেবায় করছি”।

এ রকম করতে পারলে জীবন একটা দীর্ঘ প্রার্থনা হয়ে যাবে , ঈশ্বরের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাব আমরা । কর্ম তখনই আনন্দের হবে এবং তা পুজা বলে অনুভব হবে । মনে হবে , এ আমাদের একটা সুযােগ ঈশ্বর উপাসনার সুযােগ।

পুজা

যা কিছু আমরা করে থাকি তা শুধুই ঈশ্বরকে তুষ্ট করার জন্য পুজা; কারণ তিনিই আমাদের প্রভু । আমরা তাকে ভালবাসি বলেই তার সেবা করে সুখী হ‌ই।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

x